হাজী কাউছ মিয়া এবারও দেশের সেরা করদাতাদের মধ্যে প্রথম

সংবাদদাতা:

বাংলাদেশের গণমানুষের প্রিয় ব্যক্তি দানবীর হাজী মোঃ কাউছ মিয়া এবারো সেরা করদাতার ১ নম্বার হয়েছেন।এ নিয়ে তিনি ১৮ বার সিআইপি মর্যাদার দেশসেরা করদাতার রাস্ট্রীয় পুরস্কার পেলেন।বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ট্যাক্সকার্ড প্রদান ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং সভাপতি হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা কাউছ মিয়ার হাতে সিআইপি মর্যাদার ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা তুলে দেন।

ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা গ্রহণকালে হাজী কাউছ মিয়ার ছেলে হাজী মানিক মিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

১৯৩১ সালের ২৬ আগস্ট কাউছ মিয়া চাঁদপুর জেলার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর বড় বাবা অর্থাৎ নানার পিতা জমিদার আজগর দেওয়ান। তিনি ১৭৯৫ সালে ত্রিপুরার প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। তার কনিষ্ঠ পুত্র জমিদার মৌলভী আব্দুস সালাম ছিলেন তার নানা।১৮৭০ সালে তিনি আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টাইটেল পাস করেন।

হাজী মোঃ কাউছ মিয়ার দাদার নাম হাজী মোঃ সবদ মিয়া। পিতার নাম হাজী মোঃ আব্বাস আলী মিয়া ও মাতা জমিদার কন্যা মোসাম্মৎ ফাতেমা খাতুন। দুজনই দুনিয়াতে বেঁচে নেই।তাদের বাড়ি হাজী বাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল।

কাউছ মিয়ার বর্তমানে তাঁর বয়স ৯০ বছর। এখনও তিনি প্রতিদিন ১০/ ১২ ঘন্টা ব্যবসা পরিচালনা করছেন।ব্যবসায়িক জীবনে কখনো তিনি ব্যাংক থেকে লোন নেননি। সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সব সময় নিজেকে সমাজ ও মানবসেবায় নিয়োজিত রেখেছেন। একজন দানবীর হিসাবে তাঁর রয়েছে দেশ- বিদেশে ব্যাপক সুনাম এবং পরিচিতি। দেশবাসী তাকে একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবক ও দানবীর হিসেবেই চিনেন।

তিনি তাঁর মরহুম পিতা-মাতার নামে উত্তর তারাবুনিয়া আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুর শহরের স্ট্যান্ড রোডে মায়ের নামে ফাতেমা খাতুন মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তিনি চাঁদপুর গুয়াখোলা আবাসিক এলাকায় মদিনা জামে মসজিদ এবং স্ট্যান্ড রোডে আল আমিন স্কুলের পাশে বোগদাদীয়া জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। এ দুটি মসজিদের তিনি মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছে।

হাজী মোঃ কাউছ মিয়া বলেন, আমি ১৯৫০ সাল থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। চাঁদপুর শহরের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়িক এলাকা পুরানবাজারে আমার ৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল।তৎকালীন সময়ে আমি ১৮টি বিভিন্ন কোম্পানির সোল এজেন্ট ছিলাম।এছাড়াও আমার আরো বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।আমি১৯৫৮ সাল থেকে কর প্রদান করে আসছি।১৯৬৭ সালে আমাকে তৎকালীন সরকার ১ নং করদাতার সার্টিফিকেট প্রদান করেন।আমি ১৯৭০ সালে নাদন গঞ্জের চলে আসি সেখানে আমি বিভিন্ন মালামাল কেনাবেচা তামাক ও অন্যান্য মালামাল গুদামজাত করে ব্যবসা করেন। তবে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন পণ্যের ব্যবসা করেননি।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নিরাপত্তার জন্য একটি রিভলবার লাইসেন্স প্রদান করেন, যার নং ১৪।তিনি সেই রিভলবারটি বয়সের কারণে নিজের ইচ্ছায় ২০১৮ সালে বংশাল থানায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জমা দেন।

দেশ সেরা এই করদাতা আরো জানান,১৯৮৮ সালে তিনি হাকিমপুরী জর্দা তৈরি এবং বাজারজাতকরণ করেন। তখন এটি ছিল কুটির শিল্প। তার প্রতিষ্ঠানে ৪/৫ জন শ্রমিক কাজ করত। সরকার ১৯৯৯ সালের জুন মাসে জর্দার উপর ভ্যাট আরোপ করে। তখন বছরের ট্যাক্স প্রদান করতেন ৩০/৩৫ হাজার টাকা। বর্তমানে সম্পূরক শুল্কসহ ট্যাক্স প্রদান করছেন প্রায় ৮/৯ কোটি টাকা। বর্তমানে তিনি জর্দার ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

হাজী মোঃ কাউছ মিয়া এবারও সেরা করদাতার ১ নম্বার নির্বাচিত হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ডক্টর মশিউর রহমান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রাহমাতুল মুনিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এদিকে,হাজী মোঃ কাউছ মিয়া বাংলাদেশের শীর্ষ করদাতার সর্বাধিক পুরস্কার লাভ করায় চাঁদপুরবাসী গর্ব বোধ করছে। তার এই সাফল্যের খবর শুনে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মকর্তারা ফুল ও উপহার নিয়ে গিয়ে এবং ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান।

Recommended For You

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *