২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে : শিক্ষামন্ত্রী

মাসুদ রানা ॥

শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেছেন, দীর্ঘ ২৩ বছর জাতির পিতার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি সংগ্রাম করেছে এবং একটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। জাতির পিতাকে হারিয়ে বাংলাদেশ উল্টো পথে চলেছে দীর্ঘ দিন। আজকে তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ দুরদর্শী সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন কোন ক্ষেত্র নেই যে ক্ষেত্রে এগিয়ে যায়নি। তিনি ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার ‘বঙ্গবন্ধু মঞ্চে’ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, আজকে সারা পৃথিবী বিস্মিত ছোট্ট একটা দেশ, এত বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে জাতির পিতার কন্যা বাংলাদেশকে স্বল্প উন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় আসীন করেছেন। আজকে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিদ্যুতের সমস্যা নেই। দুর্যোগ মোকাবেলার রোল মডেল। নারীর ক্ষমতায়নের রোল মডেল, উন্নয়নের রোল মডেল। শিক্ষার হার ৬৫% উন্নতি করেছেন।এইযে এমন একটি বৈশ্বিক অতিমারী হয়ে গেল। সেই অতিমারী মোকাবেলাতেও আমাদের দেশ বিশ্বের পঞ্চম। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাই এখন আমরা স্বপ্ন দেখি ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ সুখী-শান্তিময় বাংলাদেশ হবে। কিন্তু তখন দেখি সেই একাত্তরের পরাজিত খুনি, পঁচাত্তরের খুনি,২০০৪-এর একুশে আগস্টের খুনি, ২০১৩-১৪ সালের অগ্নি সন্ত্রাসী খুনি এবং তাদের দেশি-বিদেশি দোসরেরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা আস্ফালন করছে। তাদের এত দুঃসাহস তারা বলছে, আরেকটি ১৫ আগস্ট তারা ঘটাতে চায়। সেজন্য এই বিজয়ের মাসকে তারা বেছে নিয়েছিল দেশকে অস্থিতিশীল করবার জন্য। তারা ঘোষণা দিয়েছিল দশ ডিসেম্বর সরকারকে পাল্টে ফেলবে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা দুরদর্শীতা একই সাথে তার প্রতি জনগণের যে আস্থা এবং বিশ্বাস। বিএনপি-জামাত ও তাদের দোসররা সেই নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে আমরা যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি তাদেরকে সজাগ থাকতে হবে সতর্ক থাকতে হবে যেন স্বাধীনতার শত্রুরা বারবার এভাবে ছোবল হানতে না পারে। কোন জায়গায় তাদের সঙ্গে আপোষ না করি। ডাঃ দীপুমনিএমপি বলেন, দেশবিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী সকল অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রকে দমন-নির্মূল করে ২০৪১ সাল নাগাদ একটি পরিপূর্ণ উন্নত দেশ গড়া এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা রূপায়িত ডিজিটাল বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করাই আমাদের স্বপ্ন এবং বিজয় দিবসের প্রত্যয়।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ বিপিএম-বার, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন,চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ, এনএসআই উপ পরিচালক এবিএম আরমান আহমেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইয়াকুব আলী, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ইমতিয়াজ হোসেন।অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন সাংবাদিক এমআর ইসলাম বাবু। জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য বক্তারা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনের পথে সকলকে সামিল হবার আহবান জানান।

আলোচনা পর্ব শেষে শিশু একাডেমির বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। সবশেষে রুপালী চম্পক ও মৃনাল সরকারের পরিচালনায় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।সরকারি কর্মকর্তা,বীর মুক্তিযোদ্ধাগণসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসনের বিজয় দিবস অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

শেয়ার করুন: