৪০০ যাত্রী’সহ মেঘনার চরে আটকা লঞ্চ

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

‘সুন্দরবন-১১’ লঞ্চ থেকে চারশ’ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাহেরচর নামক এলাকায় মেঘনা নদীর চরে আটকে পড়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে।

বুধবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে চাঁদপুরের পশ্চিম মোহনপুর সংলগ্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে।

লঞ্চের মাস্টার আলম সরদার জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চার শ’ যাত্রী নিয়ে ‘সুন্দরবন-১১’ বরিশালের যাওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। লঞ্চটি চাঁদপুরের মোহনপুরের কাছে পৌঁছালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নদীর তীরবর্তী চরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

যাত্রী ফারুক হোসেন বলেন, রাত ১১টার দিকে ফেরির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং ১২টার দিকে চরে আটকে যায়। এই সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

তিনি জানান, সুন্দরবন ১১ লঞ্চের কোনো যাত্রীর বরিশালে পৌঁছাতে সমস্যা হয়নি। সবাই নিরাপদে সুরভী-৭ লঞ্চে চেপে বরিশালে এসে পৌঁছান। এদিকে সুন্দরবন-১১ লঞ্চটি এখনও চরে আটকে রয়েছে। জোয়ার হলে সেটিকে নামানো হবে। তবে সেটি বরিশালে আসবে না ঢাকায় যাবে তা এখনও মালিকপক্ষ জানায়নি।

এদিকে লঞ্চের সুপারভাইজার সিরাজুল ইসলাম বলেন, জোয়ার না হলে লঞ্চটি নামানো যাচ্ছে না। বুধবার সন্ধ্যা (৬.৫০) পর্যন্ত লঞ্চটি নামনো সম্ভব হয়নি।

এদিকে সুরভী-৭ লঞ্চের যাত্রী কাউসার জানান, হঠাৎ করেই বরিশালগামী সুরভী-৭ লঞ্চটি নদী তীরে আটকে থাকা সুন্দরবন-১১ লঞ্চের দিকে এগিয়ে যায়। সুন্দরবন-১১ লঞ্চের কাছাকাছি গিয়ে দেখতে পাই সেটি একদিকে হেলে রয়েছে। তবে কীভাবে কী হয়েছে তা জানতে পারিনি। পরে সুন্দরবন-১১ লঞ্চের সঙ্গে আমাদের লঞ্চটি বেধে যাত্রীদের ওঠানো শুরু করে এবং রাত দেড়টার দিকে যাত্রীদের নিয়ে সুরভী-৭ লঞ্চ বরিশালের দিকে যাত্রা করে।

মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন,খবর পেয়ে সুন্দরবন-১১ লঞ্চটি পুলিশ টহলে রাখা হয়। এখন পর্যন্ত লঞ্চটি চরে আটকা অবস্থায় রয়েছে। লঞ্চ কতৃপক্ষ ও আমরা চেষ্টা করেছি লঞ্চটি উদ্ধার করার জন্য । তবে আজ বুধবার রাতে জোয়ার আসলেই চর থেকে লঞ্চটি উদ্ধার করা সম্ভাব হবে।

শেয়ার করুন: